টেন্ডার কীভাবে করবেন: শুরু থেকে সাবমিট
বাংলাদেশে টেন্ডারে নামতে চাইলে কী জানতে হবে, কোথায় খুঁজবেন, কী কী ডকুমেন্ট লাগবে আর কীভাবে সাবমিট করবেন, সহজ ভাষায়।
টেন্ডার কী
টেন্ডার মানে কোনো সংস্থা বলছে, "আমাদের এই কাজ বা এই পণ্য দরকার। যারা পারবেন, নিজের প্রস্তাব আর দাম জানান।" সেরা প্রস্তাবের প্রতিষ্ঠান কাজটা পায়।
কাজের ধরন মোটামুটি পাঁচটা: পণ্য সরবরাহ, নির্মাণ বা ওয়ার্কস, সার্ভিস, কনসালটেন্সি, আর EOI (Expression of Interest, মানে আগ্রহ জানানোর ডাক)। প্রতিটার নিয়ম একটু আলাদা, তাই শুরুতেই ধরনটা দেখে নিন।
বাংলাদেশের সরকারি টেন্ডার বেশিরভাগ e-GP পোর্টালের মাধ্যমে হয়। দাতা সংস্থার (World Bank, ADB, UN, EU) টেন্ডারের নিজস্ব পোর্টাল আর নিয়ম আছে।
কোথায় পাবেন
e-GP
সরকারি ই-টেন্ডারের মূল পোর্টাল। রেজিস্ট্রেশন করা প্রতিষ্ঠান এখান থেকেই সাবমিট করে।
BPPA
সরকারি ক্রয়ের নীতি আর নিয়ম দেখার জায়গা। নতুন হলে নিয়মগুলো এখানে পড়ে নিন।
জাতীয় পত্রিকা
অনেক সংস্থা এখনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়, বিশেষ করে ছোট বা স্থানীয় কাজ।
World Bank
World Bank-এর প্রকল্পের কেনাকাটা আর কনসালটেন্সির নোটিশ।
UNGM
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কেনাকাটার সম্মিলিত পোর্টাল। সাপ্লায়ার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন লাগে।
UNDP
UNDP-এর নিজস্ব সংগ্রহ ও কনসালটেন্সির নোটিশ।
EU TED
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্থাগুলোর টেন্ডার, Tenders Electronic Daily-তে।
এতগুলো জায়গায় রোজ ঘুরে দেখা সময়ের কাজ। তাই আমরা নানা সোর্সের খোলা টেন্ডার এক লিস্টে সাজিয়ে রাখি, মূল নোটিশের লিংকসহ।
শুরু করতে কী কী ডকুমেন্ট লাগে
e-GP রেজিস্ট্রেশন
সরকারি ই-টেন্ডারে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের e-GP রেজিস্ট্রেশন লাগে। আগে থেকে করে রাখুন, শেষ মুহূর্তে ঝামেলা হয়।
ট্রেড লাইসেন্স
চালু আর মেয়াদ আছে এমন লাইসেন্স। নাম, ঠিকানা আর ব্যবসার ধরন বাকি ডকুমেন্টের সাথে মিলতে হবে।
e-TIN
প্রতিষ্ঠানের আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর, সাথে হালনাগাদ রিটার্নের প্রমাণ।
VAT / BIN
ভ্যাট নিবন্ধন সনদ। কাজের ধরন অনুযায়ী লাগে কি না, নোটিশে দেখে নিন।
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
ব্যাংক থেকে নেওয়া সনদ, যেটা দেখায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য আছে। নোটিশে চাওয়া অংক আর তারিখ দেখে নিন।
অভিজ্ঞতার সনদ
আগে করা সমান ধরনের কাজের সম্পূর্ণ সনদ বা ওয়ার্ক অর্ডার। কাজের ধরন আর মূল্যমান নোটিশের শর্তের সাথে মিলতে হবে।
টেন্ডার সিকিউরিটি
অংশ নেওয়ার জামানত, সাধারণত পে অর্ডার বা ব্যাংক গ্যারান্টি। অংক আর মেয়াদ নোটিশে দেওয়া থাকে, হুবহু সেটাই দিতে হয়।
দাতা সংস্থার টেন্ডারে তালিকা একটু আলাদা হতে পারে। প্রতিটা টেন্ডারের পাতায় কী কী লাগবে তার চেকলিস্ট আছে।
সাবমিটের ধাপ
- ১নোটিশটা পুরোটা পড়ুন: যোগ্যতা, ডকুমেন্টের তালিকা, ডেডলাইন আর ওপেনিংয়ের সময় লিখে রাখুন।
- ২নিজের যোগ্যতার সাথে শর্ত মেলান। না মিললে সময় নষ্ট না করে পরের টেন্ডারে যান।
- ৩ডকুমেন্টগুলো একটা ফোল্ডারে গুছিয়ে নিন। মেয়াদ আর নাম মিলিয়ে দেখুন।
- ৪টেকনিক্যাল প্রপোজাল আলাদা করে লিখুন। নোটিশের চাহিদা ধরে ধরে উত্তর দিন।
- ৫ফাইনান্সিয়াল প্রপোজাল আলাদা ফাইলে তৈরি করুন। অংক দুইবার মিলিয়ে নিন।
- ৬পোর্টালে বা নোটিশে বলা পদ্ধতিতে আপলোড বা জমা দিন। টেন্ডার সিকিউরিটি লাগলে সেটাও জমা দিন।
- ৭জমা দেওয়ার পর রিসিপ্ট বা কনফার্মেশন রেখে দিন।
ছোট ভুলগুলো, যেগুলো বড় ক্ষতি করে
ডেডলাইনের শেষ দিনে সাবমিট
শেষ দিনে পোর্টাল স্লো হয়, ইন্টারনেট যায়। অন্তত এক দিন আগে জমা দিন।
ডকুমেন্টের মেয়াদ
ট্রেড লাইসেন্স বা সনদের মেয়াদ শেষ হলে দরপত্র বাতিল হতে পারে। জমার আগে প্রতিটার তারিখ দেখুন।
টেন্ডার সিকিউরিটির ভুল অংক
চাওয়া অংকের কম বা বেশি, দুটোই সমস্যা। নোটিশ দেখে হুবহু অংক আর মেয়াদ দিন।
ফাইনান্সিয়াল প্রপোজাল টেকনিক্যালের ভেতরে দেওয়া
দুটো আলাদা রাখতে হয়। দাম টেকনিক্যাল ফাইলে ঢুকে গেলে প্রপোজাল বাদ হতে পারে।
পুরো তথ্য দেখতে ৭ দিন ফ্রি ট্রাই করুন
খোলা টেন্ডারের পুরো তথ্য, ডকুমেন্টের চেকলিস্ট আর সাবমিটের ধাপ, সব এক জায়গায়।