সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষটাই কেন সবচেয়ে পিছিয়ে?
একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।
গত এক মাসে আপনি কত ঘণ্টা কাজ করেছেন, মনে করুন তো। এবার বলুন.. বিজনেসটা ঠিক কতটুকু এগিয়েছে?
দুটো সংখ্যা যদি মেলাতে না পারেন, আপনি একা না। বেশিরভাগ ওনারের দিন কাটে ইনবক্স, দরদাম, "ভাই একটু আসেন", ডেলিভারি-ঝামেলা আর রাত ২টার মেসেজ সামলে। দিনশেষে ক্লান্তি ষোলো আনা, অথচ যে কাজগুলো বিজনেসটাকে সত্যি বড় করতো.. সেগুলো পড়ে থাকে "কাল করবো"-র খাতায়।
বিয়েবাড়ির রান্নাঘরটা দেখেছেন কখনো? হেল্পাররা সারাদিন দৌড়ায়, ঘামে ভেজে। আর ওস্তাদ? চেয়ারে বসে শুধু আঁচ দেখে.. কোন ডেগ কখন চড়বে, কোনটা দমে, কোনটার ঢাকনা এখন খোলা বারণ। তিনশো মানুষের রান্না নামে তার হাতেই।
চুলা বাড়ালে রান্না হয় না। আঁচ বুঝলে হয়।
এই বইটা সেই আঁচের ম্যানুয়াল.. একজন বিজনেস-ওনারের নিজের অপারেটিং সিস্টেম।
ভেতরে যা পাচ্ছেন (১৮ অধ্যায়, ৬ পার্ট)
- ব্যস্ততার ম্যাথ: নিজের টাইম-বেইজলাইন বের করা, আর "আমি ছাড়া চলে না" গর্বটা আসলে কীসের ডায়াগনোসিস
- ফোকাস-ইঞ্জিন: সপ্তাহের ৩ পাথর, দেশি বাস্তবতার টাইম-ব্লক (দোকান-ইনবক্স-সংসার সামলেই), আর ডিসট্র্যাকশনের মুখে ঢাকনা
- ডিসিশন-OS: ডিফল্ট-ডিজাইন, এক-পাতার ডিসিশন-ফ্রেম, আর ভদ্র-"না"-এর রেডিমেড স্ক্রিপ্ট.. সম্পর্ক না ভেঙেই
- এনার্জি-OS: ঘুম-নড়াচড়া-ভাত-ঘুমের সিস্টেম, রুটিন-স্ট্যাকিং, আর ঝড়ের দিনে টিকে থাকার নোঙর-প্রোটোকল
- লিভারেজ-OS: 4D ডেলিগেশন, AI-কে চিফ-অফ-স্টাফের পদ দেওয়া (রেডি প্রম্পটসহ), আর ৫-সংখ্যার ওনার-ড্যাশবোর্ড
- ছন্দ: সপ্তাহের হাটবার-রিভিউ, কোয়ার্টার-রিসেট, গিল্ট-ছাড়া ছুটি.. আর শেষে সেই বদলটা: অপারেটর থেকে ওনার
আর আছে ভান্ডার.. বইয়ের ইঞ্জিন-রুম
এটা পড়ার সেকশন না, ব্যবহারের:
- ২৮টা কপি-রেডি টেমপ্লেট: ভদ্র-"না" স্ক্রিপ্ট, ডেলিগেশন-হ্যান্ডঅফ, ইনবক্স অটো-রিপ্লাই, জরুরি-সংজ্ঞা, AI-প্রম্পট.. কপি করুন, নাম বসান, পাঠান
- ৬টা রেডি শিট: টাইম-অডিট, সপ্তাহ-প্ল্যানার, ডিসিশন-ফ্রেম, ডেলিগেশন-ম্যাপ, কোয়ার্টার-রিসেট (ভরা স্যাম্পলসহ)
- ৭-দিনের ফোকাস-স্প্রিন্ট + ৩০-দিনের ছন্দ: বই শেষ করে "এখন কী করবো" ভাবতে হবে না
- ১২টা সিচুয়েশন-কুইজ + ১০ হ্যাঁ/না-র স্কোরকার্ড: OS ইনস্টল হলো কিনা, নিজেই মেপে নিন
- ১২টা ওনার-কেস, ৬টা ওনার-টাইপ কার্ড, মাঠের ১৬টা প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর
এই বইটা কার জন্য
দোকান-ওনার, এফ-কমার্স, এজেন্সি, সার্ভিস-বিজনেস, ফ্যামিলি-বিজনেস.. এমনকি চাকরির পাশে সাইড-বিজনেস চালানো মানুষটার জন্যও। প্রতিটা টাইপের জন্য আলাদা "কোন সিস্টেম আগে বসাবেন" ম্যাপ দেওয়া আছে।
আর কার জন্য না? যিনি মোটিভেশনের গরম ভাষণ খুঁজছেন। এই বইয়ে ভাষণ নেই.. মেকানিজম আছে। প্রতিটা অধ্যায়ের শেষে "আজকের কাজ".. পড়া শেষ, কাজ শুরু।
লেখকের কথা
আমি সাব্বির আহমেদ.. Learning Bangladesh-এর কো-ফাউন্ডার। কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে ফুল-টাইম বিজনেসে নামার পর হাজারো ওনার-প্রফেশনালের সাথে ট্রেনিং-রুমে আর অনলাইনে কাজ করেছি। এই বইয়ের প্রতিটা সিস্টেম সেই মাঠের খাতা থেকে.. থিওরি না, যেটা আমি নিজে রোজ চালাই। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টাও এই সিস্টেমগুলোই আমাকে ধরে রেখেছিলো। সেই গল্পটাও বইয়ে আছে।
দিনে ঘণ্টা বাড়বে না। কিন্তু ঘণ্টার ভেতরের আঁচ-জ্ঞানটা বাড়ানো যায়.. আজ থেকেই।




